চালাঘর থেকে আজকের মন্দির — আট দশকের কথা
১৩৫১ বঙ্গাব্দে (১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ) ঘোষপাড়া রোডের পাশে ছোট একটি চালাঘরে মায়ের পূজা শুরু হয়েছিল। সেই থেকে একদিনও নিত্যসেবা বন্ধ হয়নি। এখানে সেই পথচলার কথা।
মন্দির সংলগ্ন শিবলিঙ্গ ও নন্দী · রাধাগোবিন্দ মন্দিরকয়েকটি পরিবারের সংকল্প
স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের উদ্যোগে ঘোষপাড়া রোডের পাশে ছোট একটি চালাঘরে দক্ষিণাকালী রূপে মায়ের পূজা শুরু হয়। তখন থেকেই পাড়ার মানুষ নিজেদের সাধ্যমতো নিত্যপূজার ভার নেন — ভোরের মঙ্গল আরতি থেকে রাতের শয়ন আরতি পর্যন্ত।
ভক্তদের দানে ধাপে ধাপে পাকা গর্ভগৃহ, নাটমন্দির ও চত্বর গড়ে ওঠে। পরে চত্বরে শিবলিঙ্গ ও নন্দী এবং শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয়।
দক্ষিণাকালী রূপে মা দীনতারিণী
মা এখানে দক্ষিণাকালী রূপে পূজিতা — শিবের বক্ষে দক্ষিণ পা, ডান হাতে বরাভয়, বাম হাতে খড়্গ। নাম দীনতারিণী: যিনি দীনজনকে তারণ করেন। ভক্তেরা বিশ্বাস করেন, নিষ্ঠাভরে মানত করলে মা কাউকে শূন্য হাতে ফেরান না।
নিত্যপূজায় লাল জবা, বেলপাতা ও সিঁদুর নিবেদন করা হয়। শনি ও মঙ্গলবারে ভক্তসমাগম সবচেয়ে বেশি হয়।
গর্ভগৃহ · নিত্যপূজার সাজে মাআট দশকের পথচলা
- ১৩৫১ বঙ্গাব্দপ্রতিষ্ঠাস্থানীয় কয়েকটি পরিবারের উদ্যোগে ঘোষপাড়া রোডের পাশে ছোট একটি চালাঘরে মায়ের পূজা শুরু হয়।
- পঞ্চাশের দশকপাকা মন্দির ও নাটমন্দিরভক্তদের দানে পাকা গর্ভগৃহ নির্মিত হয়; পাশে নাটমন্দিরে যাত্রা, কীর্তন ও পাঠের আসর বসতে শুরু করে।
- পরবর্তী কালেশিবলিঙ্গ ও রাধাগোবিন্দ প্রতিষ্ঠাচত্বরে শিবলিঙ্গ ও নন্দী এবং শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয়। শিবরাত্রি ও ঝুলনযাত্রা যোগ হয় বার্ষিক সূচিতে।
- ২০২৩ট্রাস্ট গঠনদীনতারিণী কালী মাতা ট্রাস্ট নিবন্ধিত হয় (নিবন্ধন নং ১৯০২০২৪৫৬ / ২০২৩)। মন্দিরের সেবা, হিসাব ও সংরক্ষণ ট্রাস্টের অধীনে আসে।
মন্দিরের স্মারক পুস্তিকা
মন্দিরের ইতিবৃত্ত নিয়ে প্রকাশিত স্মারক পুস্তিকার স্ক্যান করা পাতা। পাতার কোণ ধরে টেনে বা তীর চিহ্নে ক্লিক করে পাতা ওল্টান; বড় করে পড়তে পাতায় ক্লিক করুন।
ট্রাস্টের অধীনে অখণ্ড সেবা
২০২৩ সালে দীনতারিণী কালী মাতা ট্রাস্ট নিবন্ধিত হয়। মন্দিরের নিত্যসেবা, উৎসব, ভোগ বিতরণ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব এখন ট্রাস্টের; প্রতি বছর আয়-ব্যয়ের হিসাব ভক্তদের সামনে প্রকাশ করা হয়।
আট দশক পরেও মন্দিরের দ্বার জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য খোলা — যেমন প্রথম দিন ছিল।

